এপিফোরা কি ও প্রতিকার Epiphora Treatment

এপিফোরা কি?

এপিফোরা এক ধরনের চোখের অসুখ যার কারনে চোখ থেকে অনবরত পানি নিঃসৃত হয় Epiphora Treatment। এটি সাধারন রোগের চেয়ে বেশি মাত্রার রোগের লক্ষণ হিসেবেই পরিচিত এবং এর বিভিন্ন অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত, একটি স্বল্প মাত্রায় চোখের পানির নিঃসরণ ঘটাতে থাকে যার মাধ্যমে চোখের লুব্রিকেট ভেজা থাকে। আর অতিরিক্ত ফ্লুইড টুকু লয়াক্রিমাল ডাক্ট এর মাধ্যমে বের হয়ে যায় অথবা নাকের পাশে চোখের কর্নারে জমা হয়।

এই নোসাল্যাক্রিমাল ডাক্ট নাক অথবা গলার মাধ্যমে জমে থাকা পানি বের করে দিয়ে থাকে। চোখের এ জাতীয় জমে থাকা পানির অপর্যাপ্ত নিঃসরণকেই এপিফোরা বলা হয়। চোখের পাপড়ির মধ্যে পানি নিঃসরণের অক্ষমতা  থাকলে এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। চোখের পানি অধিক বের হলেও এ সমস্যা দেখা যায়। 

Epiphora Treatment : এপিফোরার লক্ষণ কি কি?

সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো চোখের অস্বাভাবিক ভেজা অবস্থা, অতিরিক্ত লালচে চোখ, হাল্কা গন্ধ, চোখ জালাপোড়া করা এবং স্কিন ইনফেকশন। অনেক কুকুরের মালিক্রাই বলে থাকেন এ অবস্থায় তাদের কুকুরকে সে সময় বেশ বিষণ্ণ দেখায় এবং চোখ থেকে অনবরত পানিও পড়তে থাকে। লক্ষণসমূহ নিম্নরুপঃ 

  • স্কুইনটিং বা অর্ধ নিমজ্জিত চোখ
  • ইনফ্লেমেশন
  • ইরিটেশন
  • শ্লেশ্মা নির্গত হওয়া
  • কর্নিয়ার আলসার বা ওকুলার ট্রমা। এতে করে চোখেরনার্ভ প্যারালাইজ হতে পারে 
  • চোখের আশে পাশের অংশ লুজ হয়ে যাওয়া 
  • এন্ট্রোপিওন 
  • এক্ট্রোপিওন 
  • ডাস্ট বা বালু 
  • দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • চোখের মণির আকার পরিবর্তন হওয়া 

ওভারএক্টিভ টিয়ার গ্ল্যান্ডসঃ

যদিও এটি খুবই রেয়ার তবে কিছু কুকুরের ওভারএক্টিভ টিয়ার গ্ল্যান্ডস গড়ে উঠে। যখন এরকম হয় তখন ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ডস কোন কারণ ছাড়াই প্রচুর পরিমাণে পানি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে কোন্রুপ ইনফেকশন, ডিজিজ বা ব্লকে দেখা যায় না।  

ট্রাইচিয়েসিসঃ 

কর্নিয়া এবং কংজাঙ্কটিভায় ইরিটেশনের কারণে এটি হয়ে থাকে। চোখের আশে পাশের লোম বের হয়ে চোখের ভেতরে প্রবেশ করার কারণে এটি হতে পারে। 

ডিসটিচেইসিসঃ 

আইল্যাসের বিন্যাস ঠিকমত না হওয়ার কারণে কর্নিয়া ইরিটেশন হতে পারে। এতে করে কুকুর বারবার চোখ চুল্কাতে চাইতে পারে। 

Epiphora Treatment এপিফোরা কিভাবে ডায়াগনসিস করা হয়? 

এপিফোরার প্রথম স্টেপে কারণ খুজে বের করা হয় যে কুকুওরটির চোখের পানির নিঃসরন এপিফোরার কারণেই হচ্ছে কিনা। অন্যান্য বিভিন্ন কারণে যেমন কংজাঙ্কটিভিস, এলার্জী, ইনজুরি, এবনরমাল আইল্যাশ, কর্নিয়াল আলসার, আই ইনফেকশন, আইলিডস, গ্লুকোমা ইত্যাদির জন্য কুকুরের চোখ থেকে পানি ঝরতে পারে।

এপিফোরার কারণ খুজে যদি বের করা যায় এবং তা নিরাময় করা হয় তবে কয়েকদিন কুকুরকে অবজার্ভ করা হয় যে নিয়মিত চোখের পানি উৎপন্ন হচ্ছে কিনা। এই ব্যাপারটির জন্য কিছু ওকুলার টেস্ট করা হয়। স্পেশাল এটেনশন দেয়া হয় ডাক্টশ এবং চোখের টিস্যুর প্রতি।

ইনফ্লেমেশন এবং এবনোর্মালিটির কোন সাইন থেকে থাকলে সেই ব্যাপারেও লক্ষ্য রাখা হয়। তবে কিছু কুকুরের ব্রিডও এমন যে তাদের ফেসের গঠনের কারণে চোখের পানির নিঃসরণ ঠিকমত বুঝা যায় না। এরুপ কুকুরদের ক্ষেত্রে চোখের পানি মুখের মাঝেই মিলিয়ে যায়। মুখের ও কানের লোম এরুপ ঘন যে চোখের পানি নিঃসরনের সাথে সাথে সেগুলি টেনে নেয়। 

খুবই সহজ একটি টেস্টের মাধ্যমে আপনি কুকুরের চোখ থেকে পানি নিঃসরণ হচ্ছে কিনা বুঝতে পারবেন। চোখের আমনে ফ্লুরুসেন স্টেইন ধরে রাখুন। কুকুরের মুখ কিছুটা নীচু করুন। দেখুন চোখ থেকে পানি নাক পর্যন্ত আসছে কিনা। যদি চোখের পানি নিঃসরণ স্বাভাবিক থাকে তবে কয়েক মিনিটের মাঝে নাকের কাছে পানি দেখতে পাবেন। যদি পানি দেখতে না পান তবে বুঝবেন ডাক্টের কারণে পানি নিঃসরণ হচ্ছে না ঠিকমত। এরপর আরো টেস্টের জন্য ভেট বা পশু চিকিৎসকের নিকটে কুকুরকে নিয়ে চলুন। 

এপিফোরা কিভাবে ট্রিটমেন্ট করাবেন?

যদি ন্যাসোলেক্রিমার ডাক্ট আপনার কুকুরের চোখের পানির নিঃসরণ বন্ধ করে ফেলে তবে এনেস্থেশিয়া বা স্পেশাল ইন্সট্রুমেন্ট দ্বারা ডাক্ট দূর করা হয়। এতে করে চোখের পানি আর বাইরে নিঃসরণ হয় না। যদি স্পেশাল ইকুয়েপমেন্ট দ্বারা ডাক্ট বের করা সম্ভব না হয় তবে সার্জারী করে ডাক্ট বের করা সম্ভব। ক্রনিক ইনফেকশন বা এলার্জীর কারণেও ডাক্ট তৈরী হতে পারে। ফ্লাশিং এর মাধ্যমে তখন একে দূর করা সম্ভব। 

যদি অন্য কোন রোগ বা চোখের কন্ডিশনে এরকমটা হয়ে থাকে তবে এর ট্রিটমেন্ট ভিন্ন ধরনের। প্রায়ই এরুপ ক্ষেত্রে সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে। 

স্টেইনিং এর জন্য আপনি কি করতে পারেন?

ফেসিয়াল স্টেইনিং রিমুভের জন্য অনেক ধরনের পন্থা রয়েছে। এতে করে কুকুরের অতিরিক্ত পানি নিঃসরন সমস্যাটির সমাধান স্মভব। তবে এগুলির কোনটিই শতভাগ কার্যকরী না। কিছু পন্থা কুকুরের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। আবার কিছুর Epiphora Treatment রিসার্চ ট্রায়ালের পরিপূর্ণ ডাটা এভেইলেবল না। 

ব্যাক্টেরিয়াল এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের কারণে কোন প্রকার এন্টিবায়োটিক সাজেস্ট করা হয় না এক্ষেত্রে। কেননা এন্টিবায়োটিক দিলে পরবর্তী জরুরী সময়ে রেজিস্টেন্সের কারণে এটি কাজ নাও করতে পারে। আপনার ভেট বা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন প্রকারের প্রডাক্ট ব্যবহার করা উচিত না। প্রডাক্টে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড অক্সাইড থাকলে সেটি কোনভাবেই ব্যবহার করবেন না। কেননা, এটি চোখের পার্মানেন্ট ক্ষতি করতে পারে। 

এপিফোরার প্রোগনিস কি?

রোগের কারণ খুজে পেলে ট্রিটমেন্ট বেশ সহজেই করা যতে পারে কিন্ত এপিফোরার ক্ষেত্রে এটি সঠিক নয়। বেশিরভাহ এপিফোরায় আক্রান্ত কুকুর সারাজীবনের অনেকটা সময় এটি বয়ে বেড়াতে পারে। যদি আপনার কুকুরের ফেসিয়াল এনাটোমি চোখের পানি নিঃসরনে বাধা প্রদান করে তবে সবধরনের ট্রিটমেন্টে এপিফোরা ভালো নাও হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আহামরি কোন প্রকার সমস্যা উদ্ভূত হয় না। আপনার ভেট কুকুরের যাবতীয় অবস্থা পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে ট্রিটমেন্ট ও প্রোগনসিস করবে। 

লিভিং এবং ম্যানেজমেন্টঃ

আপনার কুকুর এপিফোরায় আক্রান্ত হয়ে থাকলে ভেট বা পশু চিকিৎসক সাত দিন পর পর কুকুরকে চেক আপ করাতে বলবে অবস্থার কোন প্রকার উন্নতি হচ্ছে কিনা সেটি বুঝার জন্য। ট্রিটমেন্টেরসাত থেকে দশ দিনের মাঝেও যদি যদি সমস্যাটির সমাধান না হয় তবে আপনার ভেটকে দিয়ে আরো নিয়মিত চিকিৎসা করান। 

যদি সার্জারীর মাধ্যমে চোখের পানি নিঃসরণের ড্রেইন তৈরী করা হয় যেমন টিউবিং, ক্যানুলা তাহলে অবশ্যই সাতদিন পর পর ফলো আপ করুন ভেটের নিকটে। ক্যানুলা যথা স্থানে আছে কিনা সেটি দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টিউবিং রুমুভের ১৪ দিন পর রিইভালুয়েট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

রিকারেন্স একটি জটিল অবস্থা এই রোগের ক্ষেত্রে।  চোখের ইরিটেশন ঘটে এই পর্যায়ে। ন্যাসাল ক্যাভিটিতে চোখের পানির নিঃসরণ ঘটতে পারে এই রিকারেন্সের কারণে।  

এপিফোরা লং টার্মে আপনার কুকুরকে যেন এফেক্ট না করে তাই সহজেই এর ট্রিটমেন্ট করান। এফেক্টেড এরিয়াতে ডিপ ক্লিনিং এর মাধ্যমে আপনি রোগটি হওয়ার আগে থেকেই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা রাখতে পারেন। 

এপিফোরার হোম ট্রিটমেন্টঃ Epiphora Treatment

এপিফোরার হোম ট্রিটমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ন। আপনার কুকুরের এপিফোরা নিরাময়ে এই ব্যাপারটিই মুখ্য ভূমিকা রাখবে। দিনে দুই তিনবার নিয়ম করে আই ড্রপ দিয়ে দিন। এছাড়াও নীচের কিছু স্টেপ নিন কুকুরের এপিফোরার রোগের নিরাময়েঃ

১। কুকুরের ডায়েট সুশৃঙ্খলভাবে মেনে চলুন। চাইলে সিডার ভিনেগার খাবার যোগ করতে পারেন। এতে কুকুরের নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দূর হতে পারে। 

২।  এক চামুচ বোরিক এসিড ২০০-২৫০ মিলি লিটার পানিতে মিশিয়ে কুকুরের চোখে দিতে পারেন। 

৩। কুকুরকে মিনারেল ওয়াটার দিতে পারেন। কুকুরের পানি এতে খুব ভালোভাবে পরিষ্কার হবে। 

৪। সবসময় হাইজিন মেইনটেইন করে কুকুরকে পালুন। যেকোন প্রকার ক্ষতিকর অবজেক্ট থেকে কুকুরকে দূরে রাখুন। নিয়মিত কুকুরের চোখ পরিষ্কার করে দিন। এতে করে কুকুরের এপিফোরা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে Epiphora Treatment এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। 

Leave a Comment