বিড়াল ছানাকে কি কি খাওয়াবেন?

বিড়াল ছানাকে কি কি খাওয়াবেন? বিড়াল ছানাদের হাড় শক্তিশালী, পেশী বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশের জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি। বাজারে বিভিন্ন রকমের ক্যাট ফুড পাওয়া যায়। এই ক্যাট গুলোর মধ্যে কিছু ক্যাট ফুড রয়েছে নির্দিষ্ট বয়সের বিড়ালের জন্য এবং কোন বয়সের জন্য এই ক্যাট ফুড তৈরি করা হয়ছে তা ক্যাট ফুড এর প্যাকেটে উল্লেখ করা থাকে।

আবার অনেক ক্যাট ফুড রয়েছে যা সকল বয়সের বিড়ালই খেতে পারে। বাচ্চা বয়সের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার এর উপর নির্ভর করে বিড়ালের পরবর্তী জীবনের  স্বাস্থ্য অবস্থা। অর্থাৎ বিড়াল ছানাকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার বিড়ালকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াবেন নাকি পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন অসুস্থতার জন্য কয়দিন পর পর ভেটের কাছে নিয়ে যাবেন, মেডিসিন দিবেন এটা নির্ভর করে আপনার উপর। 

আপনার বিড়াল ছানার ভালোর জন্যই বিড়াল ছানার দৈহিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কি কি পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন তা জেনে রাখা উচিত। প্রয়োজনীয় এই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার গুলো বিড়াল ছানার সঠিক দৈহিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক।

কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন

আপনি, নিশ্চই জানেন যে, বিড়াল একটি মাংসাশী প্রাণি। তারা কার্বোহাইড্রেট বা শাকসবজির উপর নির্ভর করেনা তাই প্রাণিজ আমিষ আপনার বিড়াল ছানার প্রধান খাদ্য উপদান হওয়া উচিত। যদি আপনার বিড়াল সঠিক পরিমাণে প্রাণিজ আমিষ না পায় তাহলে তার দেহে ঘাটতি হবে আর সেই ঘাটতি পূরণ করার প্রয়াসে তার নিজের পেশী ভেঙে যাবে। প্রাণিজ আমিষ দেহের মাংসপেশী এবং টিস্যু বৃদ্ধিতে সহয়তা করে এবং টিস্যু ব্লক তৈরি করতে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করে।

শরীরে বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো এসিড রয়েছে। কিছু অ্য্যামিনো এসিড অন্যান্য অ্যামিনো এসিডের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- বিড়াল ছানা এবং বিড়ালের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো এসিড হলো টরিন (Taurine)। হৃদপিণ্ড, দৃষ্টিশক্তি এবং প্রজনন ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে টরিন নামক এই অ্যামিনো এসিড। এর অভাবে বিড়ালের দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এবং বিভিন্ন ধরনের কার্ডিয়াক সমস্যায় ভুগে থাকে। এই অ্যামিনো এসিড শুধু মাত্র মাংসে পাওয়া যায়। তাই বলা যায় মাংস জাতীয় খাবার বিড়ালের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কার্বোহাইড্রেট এবং শস্য দিয়ে প্রচুর ক্যাটফুড তৈরি করা হয়। যদিও এগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন তবে কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ কম দিয়ে এধরনের ক্যাট ফুড তৈরি করা উচিত। অত্যাধিক মাত্রায় কার্বোহাইড্রেটের কারণে বিড়ালের দেহের অন্ত্রের নানা রকম সমস্যা হতে পারে এবং বিড়ালের ওজন অত্যাধিক বেড়ে যেতে পারে।

বিড়াল মোটা করার উপায় জানতে এই আর্টিকেলটি পড়ুন

ফ্যাট

ফ্যাট কমবয়সী বিড়ালদের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। ফ্যাট, ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে এর মত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলোকে শুষে নিতে সাহায্য করে এবং খাবারে বাড়তি স্বাদ যোগ করে। ফ্যাট জাতীয় খাবার বিড়ালের দেহের শক্তির যোগান দেয় , ফ্যাট জাতীয় খাবার বিড়ালের ত্বক ও পশম চকচকে রাখতে প্রয়োজনীয় তেল এর যোগান দেয়। ডায়েটে ফ্যাট জাতীয় খাবারের পরিমান কমিয়ে দিলে বিড়ালের ত্বক শুষ্ক এবং আঁশযুক্ত  হয়ে যতে পারে এবং বিড়ালের ত্বকে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

বিড়াল ছানার সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক দৈহিক বৃদ্ধির জন্য ফ্যাটি এসিড এবং ফ্যাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসকল খাবারে প্রচুর পরিমানে অ্যারাকিডোনিক ফ্যাটি এসিড (Arachidonic fatty acids) রয়েছে সেসকল খাবার বিড়াল ছানাকে খাওয়ানো উচিত। এই খাদ্য উপাদান রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং ত্বকের বৃদ্ধি ঘটায়। বিড়ালছানার দেহের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত লিনোলিক এসিড ( Linoleic acid) প্রয়োজন ইনফ্লেমাটরি রেসপন্সের জন্য।

বিড়াল খাবার না খেলে করনীয় জানতে পড়ুন

ভিটামিন এবং মিনারেল

বিড়ালের হাড় ও দাঁতের সঠিক বিকাশের জন্য ভিটামিন এবং মিনারেল যেমন- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন ডি প্রয়োজন। এই পুষ্টি উপাদান গুলো কঙ্কালের সঠিক বিকাশ এবং গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কমবয়সে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন এবং মিনারেল পাওয়া যায় এমন খাবার না খাওয়ালে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিড়াল বিভভিন ধরনের জয়েন্ট এবং হাড়ের সমস্যায় ভুগতে পারে। বিড়ালছানা এবং বিড়ালদের জন্য  থিয়ামিন এবং নিয়াসিন সহ ভিটামিন এ এবং বি এর বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।

কি কি এড়িয়ে চলবেন?

বিড়াল ছানার খাবারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরী। বেশ কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো বিড়াল ছানাকে দেওয়া উচিত না। টুনা মাছ বা এ জাতীয় অন্যান্য মাছ বিড়ালকে খেতে দিবেন না। এটা টিনজাত হোক অথবা তাজা। এগুলো একদমই দিবেন না, এতে বিড়াল থায়ামিন ডিফিসিয়েন্সিতে (Thiamine deficiency)  ভুগতে পারে। বিড়ালকে দুধ খেতে দিলে এর কারণে ডায়রিয়া হত্যে পারে। কাঁচা মাংস, সালমোনেলা (Salmonella) এবং ইকলির (E.coli)  একটি সাধারণ উৎস। কাঁচা ডিম, যা বায়োটিনের ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে এবং এটা সালমোনেলার ​​উৎসও বটে।

বিড়াল অসুস্থ হলে কি করবেন জানতে ক্লিক করুন

সঠিক দৈহিক বৃদ্ধির ডায়েট

বিড়ালের ডায়েট নিয়ে আপনি রিসার্চ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে কোন এক্সপার্টের সাথে কথা বলতে পারেন। আপনার ভেট কিংবা এনিমেল নিউট্রনিস্ট বের আলোচনা করে আপনার বিড়ালের সঠিক দৈহিক বৃদ্ধির জন্য সুষম খাদ্য বাছাই করুন। কিছু প্রজাতির বিড়াল ছানা রয়েছে যাদের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য সুষম খাবারের তালিকা কিছুটা আলাদা তবে বেশিরভাগ বিড়াল ছানার সুষম খাবার তালিকা প্রায় একই রকম।

আপনার ভেটের সাথে আলোচনা না করে আপনার বিড়াল ছানাকে সুষম খাবারের বাইরে আলাদা কোন ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট দিবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট দেহের কংকাল এর সঠিক বিকাশ ব্যাহত বা অন্যান্য স্বাস্থ্য জনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিড়াল ছানার দেহের সঠিক বিকাশের জন্য সুষম খাদ্য খাওয়ানো খুবই জরুরী তবে অতিরিক্ত কোন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যাবেনা।

Leave a Comment