একটি কুকুর ছানা ছোট থেকে বড় করতে অনেক সময় এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়াও আপনাকে কুকুর পালন পদ্ধতি সম্পর্কেও জানতে হয়। তবে আপনার প্রভুভক্ত কুকুর কিছুটা সময়ের জন্য আপনার কাছে আদরের মনে হলেও, কুকুরের দাঁত উঠার সময়টাতে আপনি হয়তো কিছুটা হলেও ধৈর্য্য হারাতে পারেন। puppy teething treats
আপনি অবশ্যই এটা নিয়ে হয়তো ভালো রকমের চিন্তিত হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু স্বস্তির বিষয় এই যে,ভেট বা পশু চিকিৎতসকেরা অবশ্যই এর সমাধান দিতে সক্ষম। এই লিখাটির মাধ্যমে আমরা কুকুরের দাঁত উঠা এবং এর সার্বিক পরিচর্যা নিয়ে আলোচনা করব। এছাড়াও এই বিষয়টি কুকুর প্রশিক্ষণ এর অন্যতম একটি অংশ।

কুকুরের দাঁত উঠা কি?
যাদের বাসায় কুকুর ছানা বড় হয়েছে তারা অবশ্যই কুকুরদের দাঁত উঠার সময়ে কুকুরদের আচরণের তীব্র বেদনার কথা জেনে থাকবেন। মানুষের বাচ্চাদের চাইতে তাড়াতাড়ি তাদের ছোট দাঁত উঠে যায়। জন্ম নেয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের দাঁত উঠছে বলে লক্ষ্য করবেন।
সাধারণত আমরা যখন কোনো কুকুরকে পুষতে নেই ততদিনে তার ছোট দাঁতের পর্ব ইতোমধ্যে শেষ হয়ে যায়। যখন একটি কুকুরের দাঁত উঠার পর্ব শুরু হয় তার মানে তার ছোটকালের দাঁতগুলো পড়ে নতুন দাঁত গজাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত ২ মাসের মত সময় লাগে এবং কুকুরের বয়স থাকে ৪ থেকে ৬ মাসের মত।
কুকুর পোষার নিয়ম যদি না জেনে থাকেন, তাহলে হোক সেটা বিদেশী কুকুর, সঠিক কুকুর ট্রেনিং না পেলে সেটা আপনাকে যে কোন সময় কামড়ে দিতে পারে। কুকুর কামড়ালে করণীয় এবং কুকুর কামড়ালে তাৎক্ষণিক যা করবেন? জেনে রাখুন!
এছাড়া আপনার বাসায় যদি বিড়াল থাকে এবং সেই বিড়ালের ডায়রিয়া হয় তাহলে কি করতে হয় আপনি কি জানেন? এটা জানতে হলে আমাদের এই বিষয়ক আর্টিকেলটি পড়ুন।
কুকুরের দাঁত সাধারণত কখন গজিয়ে থাকে?
বেশিরভাগ প্রাপ্ত বয়ষ্ক কুকুরের ৪২ টি দাঁত থাকে এবং এই সবগুলো দাঁত ঐ দুই মাস সময়ের মধ্যেই গজিয়ে থাকে। এটি খুব দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয় এবং এ সময়টাতে তারা প্রায় সবকিছুতেই কামড় দিতে চায়।
কুকুরের দাঁত উঠাঃ করণীয় বিষয়সমূহ কুকুর পালন পদ্ধতি
১। পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখাঃ
এ সময় অবশ্যই তাদেরকে খুব নজরের মধ্যে রাখতে হবে কেননা কিছু কুকুর থাকে যারা কোনটা খাবার জিনিস আর কোনটা খাওয়া যাবে না এ নিয়ে সংশয়ে থাকে এবং কৌতূহল বসত সব কিছুকেই কামড় দেয়ার চেষ্টা করে। যা করনীয় তা হলো তাদের কামড় দেয়ার উপযোগী কিছু জিনিস তাদের চারপাশে রাখা এবং এর মাধ্যমে তাদের ব্যস্ত রাখা।
আপনার বাসায় বিড়াল রাতে ঘুমাচ্ছে না? এই নিয়ে চিন্তিত? আমাদের এই বিষয়ক আর্টিকেলটি পড়ে দেখতে পারেন যে কিভাবে বিড়ালকে রাতে ঘুম পাড়াবেন।
২। ধৈর্য্য ধারন করাঃ
ভাবনার বিষয় এই যে, ঠিক কোন ধরনের খেলনা বা খাবার তাদের এই দাঁত উঠার সময়টায় সাহায্য করতে পারে! এ সময় সব খেলার জিনিস উপহার দেয়ার চেয়েও যে জিনিষটা তার জন্য বেশি দরকারী তা হলো ধৈর্য্য। এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এটি তার জীবনের শুধুমাত্র একটি সংক্ষিপ্ত অধ্যায় যা অতি দ্রুত কেটে যাবে। তাই এ সময় তার সাথে যথেষ্ট ধৈর্য্য নিয়ে ব্যবহার করতে হবে। এ সময় তার অস্থির আচরণ এবং জিনিসপত্র এলোমেলো করা খুবই সাভাবিক বিষয়।
৩। প্রয়োজনীয় খেলনার ব্যবস্থা করাঃ কুকুর প্রশিক্ষণ
চিবানোর খেলনা গুলো সব কুকুরদেরই প্রথম পছন্দ। “বুলি স্টিক” এর মধ্যে অন্যতম খেলনা। এটা বলা যেতে পারে যে বুলি স্টিক এক ধরনের চিবানোর খেলনা যা প্রোটিন সমৃদ্ধ। এটা ষাড়ের জননাঙ্গের এর ছোট টুকরা থেকে শুকিয়ে তৈরি হয় বলে অনেকেই এটি ব্যবহার করতে রাজি থাকেন না। কিন্তু এটির বিশেষত্ব হলো এর কিছুটা তীব্র গন্ধ এবং চিবাতে আরামদায়ক বলে সব কুকুরেরই এটা খুব পছন্দ করে থাকে।
অন্য খেলনাগুলো যেমন- এন্টলার এবং হাড় ইত্যাদি কুকুরদের জন্য কিছুটা শক্ত প্রকৃতির বলে চিবাতে আরামদায়ক হয় না । বুলি স্টিক পুরোপুরিভাবেই পরিপাকের উপযোগী এবং অনেক সময় ধরে চিবানোও যায় বলে এটি একটি উপযুক্ত খেলনা।
আপনার কুকু্র যেন প্রথমেই পুরোটা গিলে না ফেলে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চাইলে বুলি স্টিকটির এক প্রান্ত আপনার হাতে নিয়ে তার মুখের কাছে ধরতে পারেন । এতে করে তার সাথে আপনার একটি ভাল সময় কাটবে এবং তার দাঁতের জন্য উপকারীও হবে।
এদিকে আপনার বাসায় পোষা বিড়ালটি যদি লিটার বক্স বন্ধ করে তাহলে কি করবেন? দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে দেখুন।
৪। খেলনার পরিবর্তে ফ্রোজেন ফলমূল খেতে দেয়াঃ
আপনার কুকুরকে বিভিন্ন রকমের ফলমূল ফ্রিজিং করে পরিবেশন করতে পারেন। তাদেরকে চিবাতে সাহায্য করবে এবং এগুলো অস্বাস্থ্যকরও হবে না। এমনকি তাদের দাঁতের রিকভারিতেও এগুলো সাহায্যকারী বলে প্রামাণিত ।
ঠান্ডা গাজর ভিটামিন এবং মিনারেলের পাশাপাশি আপনার কুকুরের মাড়িকে দিবে আরামদায়ক অনুভুতি। কিন্তু অবশ্যই দিনে একটির বেশি গাজর দেয়া উচিত নয়। কারন গাজর এক ধরনের হাই-ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য। তাই প্রতিদিন একটি ফ্রোজেন গাজরই তার পাচনক্রিয়ার জন্য গ্রহনযোগ্য হবে।
আরো কিছু ফ্রোজেন ফলমূল যেমন, স্ট্রবেরি অথবা কলার ছোট টুকরো করে কোল্ড প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। ওরাল সমস্যার জন্য এ জাতীয় ঠান্ডা জিনিস সাময়িকভাবে অত্যন্ত উপকারী। যদিও এ টুকরা গুলো তৈরি করা এবং তাকে খাওয়ানো কিছুটা কঠিন হতে পারে।
৫। একটি ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করাঃ
যদি হাই-ফাইবার সমৃদ্ধ ফলমূলে তার পেটে বিশেষ সমস্যার তৈরি করে তবে তার জন্য এমন কিছু চিবানোর ব্যবস্থা করতে হবে যা সে গিলতে পারবে না বিধায় পেটে যাবে না। আর পেটে গেলেও সমস্যা হবে না।
একটি ভেজা তোয়ালে ভালোভাবে পেচিয়ে এবং মুড়িয়ে ফ্রিজিং করার ব্যবস্থা করুন। এটিকে একটি দড়ির আকৃতি দিতে চেষ্টা করুন। এ ধরনের জিনিস তার দাঁতকেও আরাম দিবে আবার কোনো প্রকার সমস্যাও তৈরি হবে না।
কিছু কুকুরের জন্য সবচাইতে উপযোগী চিবানোর খেলনা হলো বরফ। কিছু কিছু কুকুরের কাছে শুধু বরফের টুকরো খেতে টেস্টি নাও লাগতে পারে। তাদেরকে চাইলে কিছু মুরগীর মাংসের টুকরা বরফের টুকরোর মত করে কেটে ফ্রিজিং করে খাওয়াতে পারেন। বা চাইলে তার প্রতিদিনের খাবারের সাথেও বরফের টুকরা মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে তার খাবার খাওয়ার সময় আরাম অনুভূত হবে।
৬। ভেষজ খাবারের ব্যবস্থা করাঃ
কিছু ভেষজ গাছ আছে যেমন, ল্যাভেন্ডার এবং ক্যামাইল যাদেরকে নিরাময়ের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং এগুলো অবশ্যই আপনার কুকুরের দাঁতের সুস্থ্যতার জন্য অত্যন্ত কার্যকারী উপায়। আপনি চাইলে একটি হারবাল চা পরিবেশন করতে পারেন তার জন্য। প্রথমে চা তৈরি করে তা ঠান্ডা হবার জন্য অপেক্ষা করুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে তা তার রেগুলার খাবারের মধ্যে মিশিয়ে দিন। আপনি চাইলে তার মুখে একটি সিরিঞ্জ এর সাহায্যেও মুখে দিতে পারেন বা এগুলোকে আইস-কিউবের মত করে ফ্রিজিং করেও খাওয়াতে পারেন যা তাকে চিবাতেও সাহায্য করবে আবার দাঁতেও আরামদায়ক অনুভূতে দিবে।
৭।বেবি গেটের ব্যবস্থা করাঃ কুকুর পোষার নিয়ম
আপনার কুকুর যখন ছোট থাকে তখন তার জন্য আপনার সারা ঘরে ঘুরে বেড়ানো অবশ্যই উচিত নয়। কারন সে বিভিন্নভাবে আঘাত পেতে পারে। বিশেষ করে এ সময় তার দূড়ন্তপনা অনেক বেশি বেড়ে যায়। তাই তাদেরকে বাসার বিপদজনক জায়গা ঠেকে বিরত রাখতে হলে বেবি গেটের মাধ্যমে তাদের চলাফেরার স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়া যায়। এতে করে তাদের এ সময় সব কিছুই চিবাতে চাওয়ার প্রবণতার কারনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না।
৮। দাঁতের পরিচর্যা
যদি আপনার কুকুরের একবার বড় দাঁত উঠে যায় তাহলে তার প্রতিনিয়ত দাঁতের এবং মাড়ির সুরক্ষা নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব। আপনি চাইলে বাসায় আপনার কুকুরের দাঁত মাজতে পারেন অথবা বিভিন্ন স্পা শপে আপনার কুকুরকে নিয়ে যেতে পারেন। এতে আপনার কুকুরের দাঁতের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো সম্ভব।
মাসিক চেকআপ এর জন্য আপনার কুকুরকে ভেট বা পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। আপনার কুকুরের পূর্ণবয়স্ক দাঁত উঠে গেলে তাকে আপনার ভেট হয়তো মেলিগম্যান্ট নামক একটি গাম দিবে যা তার দাঁতের কিছু সমস্যার পারমানেন্ট সমাধান হতে পারে।
কুকুরের দাঁত উঠার সময় যা যা করা যাবে না– কুকুর হইতে সাবধান
১। ফ্রোজেন ফলমূল দেয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে যেই খাদ্যগুলো দেয়া হচ্ছে সেগুলো তার শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কি না। যেমন, এভোকাডো বা পেয়াজ জাতীয় খাবারগুলো তাদের জন্য বিষাক্ত হয়ে থাকে।
২। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনো প্রকার ওষুধ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। এমন কি বাসায় তৈরি কোনো হোম মেইড ওষুধ যেমন, ক্লোভ অয়েল বা এ জাতীয় যেকোনো ওষুধ দেয়া থেকে বিরত থাকবেন।
৩। কিছু কিছু আর্টিকেল অনুযায়ী বরফের টুকরা দেয়াও ক্ষতিকর হতে পারে। কারন এ সময় দাঁত খুবই ভঙ্গুর ঠাকে। তাই দাঁত ভেংগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪। কিছু কিছু এক্সপার্ট আবার বুলি স্টিকের বিপক্ষে কথা বলে থাকেন। তাদের মতে বুলি স্টিকে ব্যবহৃত ক্যামিক্যাল আপনার কুকুরের জন্য ক্ষতিকারক প্রমাণিত হতে পারে।
৫। কোনো প্রকার চিবানোর খেলনাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আপনার কুকুরকে দেয়া যাবে না।

No Responses