সদ্য জন্ম নেয়া বিড়ালছানার সঠিক যত্ন নিন Newborn Kitten Care। একটি সদ্য জন্মানো বিড়াল বাচ্চাকে অত্যন্ত সতর্কভাবে যত্ন নিতে হয়। একটু অসাবধানতা নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সদ্য জন্মানো শিশু বিড়াল বাচ্চাকে অনেক ভাবে যত্ন নিতে পারেন। নীচে কিছু বিষয় বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল যাতে আপনি খুব সহজেই একটি শিশু বিড়াল বাচ্চার যত্ন নিতে পারবেন।
বিড়ালের বাচ্চা পালনঃ
কিভাবে সঠিকভাবে বিড়ালের বাচ্চা পালন করবেন, কিভাবে বিড়াল ছানার খাবার খাওয়াবেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
কীভাবে সদ্য জন্মানো বিড়াল বাচ্চাকে খাওয়াবেন?

সদ্য জন্ম নেয়া বিড়ালছানার সঠিক যত্ন নিন Newborn Kitten Care। চার সপ্তাহ পর্যন্ত ছোট বাচ্চা শক্ত বা সলিড কোন খাবার খেতে পারে না। খাবার best kitten food ক্যানড হোক বা শুকনো হোক তারা একাকী খাবারটি খেতে পারে না। পুরোপুরি তারা তাদের মা বিড়ালের উপর নির্ভরশীল। মায়ের দুধ থেকেই মূলত তারা তাদের যাবতীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। সমস্যা তখনই যখন তাদের মা আশে পাশে থাকে না বাচ্চা বিড়ালকে খাওয়ানোর জন্য। সে মুহূর্তে আপনাকেই ছোট বিড়ালকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিতে হবে।
মা বিড়ালের অনুপস্থিতিতে আপনি বাচ্চা বিড়ালটিকে বিভিন্ন নিউট্রিশন সম্পন্ন ক্যাট মিল্ক রিপ্লেসার খাওয়াতে পারেন। মানুষ যে দুধ খায় সেগুলি অবশ্যই বাচ্চা বিড়ালকে খেতে দেয়া যাবে না। গরুর দুধ বিড়ালকে খুবই দুর্বল করে তোলে।
আপনি যদি বুঝে উঠতে না পারেন কোন দুধ খাওয়াবেন তবে ভেটের পরামর্শ নিয়ে মিল্ক রিপ্লেসার চুজ করতে পারেন।
বেশিরভাগ ড্রাই মিল্ক রিপ্লেসারে ফ্রিজারের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত দুধ বানিয়ে ফেললে ফ্রিজে রাখতে পারেন। বাচ্চা বিড়ালকে দুধ খাওয়াতে নীচের স্টেপগুলি ফলো করতে পারেনঃ
ফর্মুলা অনুযায়ী প্রস্তুতকরনঃ
রুম টেম্পারেচারে বাচ্চা বিড়ালের জন্য দুধ প্রস্তুত করুন। টেম্পারেচার ভালোভাবে পরীক্ষা করুন খাওয়ানোর আগে। আপনার হাতে কয়েক ফোটা নিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।
সবকিছু পরিষ্কার রাখুনঃ
খাওয়ানোর পূর্বে এবং পরে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন। যে বোতলে খাওয়াচ্ছেন সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরিষ্কার রাখুন। “kitten gown” বা কিটেন গাওন খুবই সুবিধাজনক। একটি পরিষ্কার শার্ট অথবা কাপর পেঁচিয়ে নিতে পারেন খাওয়ানোর সময়। কিটেন গাওন বা “kitten gown” জার্ম স্প্রেড হতে দেয় না।
বিড়ালের স্বাস্থ্যের দিকে আপনাকে কড়া নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে বিড়ালের হাঁচি হলে কি করনীয় সেটা আমাদের এই আর্টিকেলে থেকে পড়ে নিতে পারেন।
নম্রভাবে খাওয়ানঃ
খুব কেয়ারিংস নিয়ে শিশু বিড়াল newborn kittens বাচ্চাকে খাওয়ান। বাচ্চাকে কোলে শুইয়ে যেভাবে তার মা বিড়াল খাওয়াত ঠিক সেই পজিশনেই খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। যখন কোলে নিবেন একটি নরম টাওয়াল সাথে রাখুন। এমন একটি পজিশন বের করুন যাতে আপনি ও শিশু বিড়াল দুজনেই আরাম অনুভব করতে পারেন।
বিড়াল বাচ্চাকে প্রাধান্য দিনঃ
দুধে পরিপূর্ণ বোতলটি বাচ্চা বিড়ালের মুখে ধরুন এবং সুবিধা অনুযায়ী বাচ্চা তার পরিমানমত দুধ টেনে নিক। যদি বাচ্চা দুধ টেনে না নিতে পারে তবে আলতো করে বাচ্চা বিড়ালের কপালে হাত বুলিয়ে দিন। সাধারণত মা বিড়াল খাওয়ানোর সময় বাচ্চা বিড়ালের কপাল স্পর্শ করে বা আদর করে দেয়। এতে করে বাচ্চা বিড়াল খেতে উৎসাহ পায়।
একটু পর পর খেতে দিনঃ Newborn Kitten Formula
বাচ্চা বিড়ালকে একটু পর পরই খেতে দিন newborn kitten formula । সাধারণত তিন ঘন্টা পরপর খাবার খেতে দেয়া ভালো। আবার এদিকে আগ বাড়িয়ে একটু বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য অনেকেই আছেন এলার্ম দিয়ে রাখেন যাতে খাবার দেয়া একদম মিস না হয়। রাতের বেলায় এটি সবথেকে ভালো কাজে দেয়। খাবার ঠিকমত না দিলে বা অতিরিক্ত খাবার দিলে বিড়ালের ডায়রিয়া বা উদরাময়, ডিহাইড্রেশনসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
ঢেকুর দেওয়ানঃ
খাওয়ানোর পর ঢেকুর দেয়ানোর চেষ্টা করুন ঠিক যেভাবে ছোট বাচ্চাদের দেয়ানও হয়। ছোট বিড়াল বাচ্চাকে সোজাসুজি শুইয়ে দিয়ে পিঠ আলতো করে হাতিয়ে দিন। যখন ঢেকুর দিয়েছে বুঝবেন তখন এটি বন্ধ করুন। প্রতিবার খাওয়ানোর পর বেশ কিছুক্ষণ এটি আপনাকে কয়েক সেশন মিলিয়ে করতে হবে।
যদি কোন ভাবে আপনি বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে না পারেন তবে পশু ডাক্তার বা ভেটের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
বাচ্চা বিড়ালের খাবারঃ
দুধ দেয়ার পাশাপাশি আর কি কি বিড়াল ছানার খাবার হিসেবে দিতে পারেন তা নিন্মে উল্লেখ করা হলো।
Newborn Kitten Formula/ দুধ দেয়ার পাশাপাশি আর কী কী বিড়ালের বাচ্চার খাবার হিসেবে খেতে দিতে পারেনঃ
- আপনার শিশু বিড়ালটির বয়স যখন সাড়ে তিন থেকে চার সপ্তাহ , আপনি তখন বোতল থেকে পাত্রেতে করে খাবার দিতে পারেন। যদিও এটি একটু সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া এবং বিড়ালের অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি আপনি নিম্নোক্তভাবে সম্পন্ন করতে পারেন।
- চামচে করে বাচ্চা বিড়ালকে খেতে দিতে পারেন।
- এরপর খাবারের পাত্রে খাবার খেতে দিতে পারেন।
- খাবার পাত্রে খাবারের সাথে মাঝে মাঝে ক্যানড ফুড খেতে দিতে পারেন।
- ক্যানড ফুড দেয়ার পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়াতে পারেন এবং কিটেন ফর্মুলা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিন।
যদি আপনার বাচ্চা বিড়ালটি চামচ বা পাত্রে খেতে না চায় তবে আরও কিছু বোতলে করেই খাবার দিতে থাকুন। যেহেতু এটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া তাই সবসময় বাচ্চা বিড়ালকে মনিটর করুন এবং খেয়াল রাখুন যেন তারা খাবার ঠিকমত হজম করতে পারছে কিনা। যদি বাচ্চা বিড়ালটির পারফরমেন্স ভালো হয় এবং হজমে কোন প্রকার সমস্যা দেখতে না পানে যেমন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য তবে ধীরে ধীরে অন্যান্য খাবার খেতে দিতে পারেন।
এই সময়টিতে সুপেয় পানি পানের বিষয়টি নিশ্চিত করুন। তাদের কোনভাবেই যেন ডিহাইড্রেট বা পানিশূন্যতা দেখা না দেয়।
কতক্ষণ পর পর বাচ্চা বিড়ালকে খাবার খেতে দিবেন?
- সাধারণত বাচ্চা বিড়ালের বয়সের উপর নির্ভর করে তাদেরকে খেতে দিতে পারেন।
- এক সপ্তাহ বয়সী বিড়ালঃ প্রতি ২-৩ ঘন্টা পর পর
- দুই সপ্তাহ বয়সী বিড়ালঃ প্রতি ৩-৪ ঘন্টা পর পর
- তিন সপ্তাহ বয়সী বিড়ালঃ প্রতি ৪-৬ ঘন্টা পর পর
- ছয় সপ্তাহ বয়সী বিড়ালঃ তিনের অধিক বার ক্যানড ফুড সহ খাবার
- বার সপ্তাহ বয়সী বিড়ালঃ তিন বেলা ক্যানড ফুডসহ খাবার
- আপনার যদি এই ব্যাপারে আরো কিছু গাইডেন্সের প্রয়োজন মনে করেন তবে ভেটের সাথে পরামর্শ করে নিতে পারেন।
বিড়ালের বাচ্চার পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই মা বিড়ালের প্রতিও যথেষ্ট যত্নশীল হতে হবে।
বিড়ালের বাচ্চার যত্নঃ
বিড়ালের বাচ্চাকে সুস্থ রাখার জন্য সঠিকভাবে বিড়ালের বাচ্চার যত্ন করতে হবে। নিচে বিড়ালের বাচ্চার যত্ন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
কীভাবে বাচ্চা বিড়ালকে উষ্ণ রাখবেন?
বাচ্চা বিড়ালকে ক্যাট ক্যারিয়ারে কয়েক লেয়ারের টাওয়েল দিয়ে উষ্ণ রাখতে পারেন। নরম কম্বলের পাশাপাশি হিটিং প্যাড বা হিট ডিস্ক দ্বারাও উষ্ণতা দিতে পারবেন। তবে ক্যারিয়ারটি যেন বড় হয় এটি নিশ্চিত করবেন। কেননা উষ্ণতা বেশী অনুভব হলে বিড়াল ছানাটি নিজে থেকে অন্য পাশে সরে যেতে পারবে।
অন্য পোষা প্রাণী থেকে নতুন বিড়াল ছানাকে আলাদা রাখুন। সারাদিনে কিছু সময় পর পর চেক করুন ঠিক আছে কিনা। যদি বাচ্চা বিড়ালটি বেশী ঠাণ্ডা অনুভব করে তবে দ্রুতই তাদের উষ্ণতার ব্যবস্থা করুন।
বাচ্চা বিড়ালকে কখন স্পর্শ করবেন?
ভেটরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে, চোখ খোলার পূর্ব পর্যন্ত বাচ্চা বিড়ালকে হাত দিয়ে একদমই স্পর্শ না করার জন্য। সরাসরি স্পর্শ ছাড়াই আপনি কিছুদিন তাদের হেলথ এবং ওয়েটসহ সবকিছু ঠিক আছে কিনা চেক করতে পারবেন।
এর মাঝেই আপনি মা বিড়ালের প্রতিক্রিয়া দেখে বুঝতে পারবেন যে সে তার বাচ্চা বিড়ালটিকে আপনার কাছে নিরাপদ মনে করছে কিনা। বিশেষ করে একদম শুরুতে। যদি মা বিড়াল এগ্রেসিভ প্রতিক্রিয়া দেখায় তবে সে এবং তার বাচ্চাকে কিছুটা স্পেস দিন।
বিড়াল ছানাকে বাথরুমে যাওয়া শিখাবেন কীভাবে?
বাচ্চা বিড়াল baby kitten নিজে থেকেই বাথরুমে যেতে পারে না। সাধারণত মা বিড়াল তাকে সাথে করে নিয়ে যেতে পারে অথবা পরিষ্কার করিয়ে দেয়। যদি মা বিড়াল সঙ্গে না থাকে তবে বাচ্চা বিড়ালটি আপনার উপরই নির্ভর করবে। সদ্য জন্ম নেয়া বিড়ালছানার সঠিক যত্ন নিন Newborn Kitten Care এর মাধ্যমে।
বাচ্চা বিড়ালের বাথরুমের জন্য পরিষ্কার, উষ্ণ ওয়েট কটন গোলাকার বোল ব্যবহার করুন। আলতো ভাবে বাচ্চা বিড়ালের পেট এবং এনাল এরিয়া হাত বুলিয়ে দিন। এতে এক মিনিটের মাঝেই বিড়াল ছানা মলত্যাগ করবে। পরবর্তীতে নরম ভেজা কাপড় দিয়ে তাকে পরিষ্কার করিয়ে দিন।

বিড়াল ছানার বয়স তিন চাপ সপ্তাহ হয়ে গেলেই তাদেরকে লিটার বক্সের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। একিই পদ্ধতিতে কটল বোল ব্যবহার করে ছোট বয়সেই তাদেরকে পটি ট্রেন দিয়ে লিটার বক্সে অভ্যস্ত করে তুলুন। এতে করে সহজেই তারা বুঝে উঠবে কী করতে হবে
তারও কিছুদিন পর থেকেই আপনাকে সেই বিড়ালের নখ কেটে দিতে হবে। আপনি বিড়ালের নখ কাটার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে দেখতে পারেন, আশাকরি আপনার উপকারে আসবে।
পুরো ব্যাপারটি কয়েকবার প্র্যাকটিস করুন যাতে তারা দ্রুতই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। লিটার বক্স মানুষ থেকে দূরে নিরিবিলি জায়গায় রাখুন যাতে তারা কমফোর্ট অনুভব করে।
মোঃ খালিদ বিন জামান

No Responses