প্রসবের পর মা বিড়াল ও বাচ্চা বিড়ালের যত্ন কীভাবে নিবেন How to Take Care of Newborn Kittens with Mother

প্রসবের পর মা বিড়াল ও বাচ্চা বিড়ালের যত্ন কীভাবে নিবেন how to take care of newborn kittens with mother. আপনার যদি একটি বিড়াল থেকে থাকে তবে বিড়ালটির প্রেগনেন্সি বা গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পর যাবতীয় সব কিছুর দাইয়িত্ব আপনার। প্রসবের পর বিড়ালের যত্ন সপর্কে আপনার সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখা প্রয়োজন।

ঝুকিপূর্ণ এই সময়টিতে আপনাকে খুব সুচারুভাবে বিড়ালের যত্ন আত্নি এবং কোন প্রকার অসুবিধা হচ্ছে কিনা ব্যাপারগুলি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আজকের এই লিখায় আমরা আপনাকে জানাবো এই সময়টিতে কীভাবে মা বিড়াল ও শিশু বিড়ালের যত্ন নিবেন এবং তাদের হেলথ ইস্যু নিয়ে কখন কনসার্ন থাকবেন।

প্রসবের পর মা বিড়াল ও বাচ্চা বিড়ালের যত্ন কীভাবে নিবেন How to Take Care of Newborn Kittens with Mother

বিড়ালের বাচ্চা হওয়ার লক্ষণঃ

গর্ভবতী বিড়াল জন্মদানের জন্য নিরিবিলি এবং যায়গা খুঁজে নিবে। এটা জন্মদানের দু-একদিন আগেও হতে পারে কিংবা কয়েকঘন্টা গাএও হতে পারে। Labor এর ২৪ঘন্টা কিংবা ৪৮ঘন্টা আগে গর্ভবতী বিড়াল অনেক বেশি অস্থির এবং উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বে। এসময় সে ম্যাও ম্যাও করবে এবং স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশি চিৎকার করবে। তার দেহের তাপমাত্রা ১০০ডিগ্রি ফারেনহাইট এর নিচে চলে আসবে. Labor এর সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে হালকা স্রাব পরিষ্কার করার জন্য তার ভালভাকে চাটতে শুরু করবে।

ভেটেরিনারিয়ান বা পশু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়াঃ

বাচ্চা প্রসবের এক সপ্তাহ পর পরই মা বিড়াল ও বাচ্চা বিড়ালকে নিয়ে ভেট বা পশু চিকিৎসকের কাছে নিইয়ে যান। মা বিড়ালকে যদি ভ্যাক্সিন না দিয়ে থাকেন তবে এই সময়টিতে ভ্যাক্সিন দিয়ে দিতে পারেন। সবথেকে ভালো সময় এটিই। এছাড়াও roundworms এর প্রতিষেধকও বিড়ালকে দিতে পারেন। এতে করে মা বিড়াল ও শিশু বিড়াল উভয়েই ভালো এবং নিরাপদ থাকবে।

তবে এগুলোর পাশাপাশি আপনার বাসায় যদি আরো নতুন বিড়াল নিয়ে আসার প্ল্যান থাকে তাহলে জেনে নিন কীভাবে পুরাতন বিড়ালের সাথে নতুন বিড়ালের পরিচয় করিয়ে দিবেন

বাচ্চা বিড়াল ও মা বিড়ালের যত্নঃ Newborn Kitten Care Week by Week

প্রসবের পর মা বিড়াল ও বাচ্চা বিড়ালের যত্ন কীভাবে নিবেন? বাচ্চা প্রসবের দুই তিন সপ্তাহ সবথেকে জটিল সময়। এ সময় মা বিড়াল ও বাচ্চা বিড়ালের কিছুটা অতিরিক্ত যত্ন নিতে হয়। বাচ্চা বিড়াল জন্মের পর থেকেই দ্রুত বেড়ে উঠতে থাকে। যদিও মা বিড়ালের প্রসব পরবর্তী জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এমনকি আপনাকে জেনে রাখতে হবে বিড়ালের হাঁচি হলে কি করবেন, অথবা বিড়ালকে কীভাবে পটি ট্রেইনিং করাবেন

মা বিড়ালের দিকে কিছুটা বেশী মনোযোগ দিন। সে যদি আপনার অনেক পুরনো পোষা প্রাণী হয়ে থাকে তবে বেশ সহজেই এই সময়টিতে আপনার সাথে মিশতে থাকবে। আর যদি প্রাণীটি আপনার পোষা না হয়, তবে সে দূরে দূরে থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পরিপূর্ণ যত্ন পেতে থাকবে এবং এদিক সেদিক ছুটাছুটি করবে বুঝে নিবেন যে সেরকম কোন জটিলতা নেই তাদের মাঝে।

মা ও বাচ্চা বিড়ালকে বাসার সবথেকে নিরিবিলি অংশে থাকতে দিন। সবচেয়ে ভালো হয় আলাদা একটি রুম দিতে পারলে। রুমের তাপমাত্রা যেন যথাযথ থাকে এবং উষ্ণ থাকে এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করুন। কেননা নতুন বাচ্চার ক্ষেত্রে অনেক সময় শরীর থেকে পরিমাণ মত তাপমাত্রা উৎপন্ন করতে পারে না। যদিও মা বিড়াল তার বাচ্চার শরীর উষ্ণ রাখতে পারে কিন্ত সবসময় মা বিড়াল সাথে নাও থাকতে পারে (milk replacer for kittens)।

শিশু বিড়ালকে উষ্ণ রাখতে কম্বল, হিট ল্যাম্প, হিটিং প্যাড ইত্যাদি দিয়ে সবসময় প্রয়োজনমত উষ্ণ রাখতে পারেন। এই উষ্ণতা শিশু বিড়ালের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় একটি বাক্স আরামদায়কভাবে তৈরি করতে পারেন মা ও শিশু বিড়ালকে একত্রে রাখার জন্য। পরিষ্কার শুকনো টাওয়েল বিছিয়ে দিন।

এতে ছোট বিড়াল কোন ভাবে বক্সে মলত্যাগ করলে দ্রুত শুকিয়ে যাবে। এছাড়াও টাওয়েল পরিবর্তন করাটা আপনার জন্যই সহজ হবে এবং প্রয়োজনে ধুয়ে শুকিয়ে আবার সেটি বিড়ালের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। মা বিড়ালের লিটার বক্স, খাবারের পাত্র, পানির পাত্র খুবই কাছাকাছি রাখুন।

হাই কোয়ালিটি ক্যানড ফুড, সাপ্লিমেন্ট, KMR (Kitten Milk Replacement) ইত্যাদি এই সময়ে বেশী বেশী খেতে দিন। এসব ক্যানড ফুড স্বাস্থ্যসম্পন্ন পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ থাকে। তাই এসব খাবার প্রসব পরবর্তী মা বিড়ালকে যথাযথ পুষ্টি সরবরাহ করে। তবে ক্যানড ফুডে খাবারের উপকরন সম্পর্কে জেনে নিন।

বিড়ালের বাচ্চা পালনঃ

ছোট বিড়াল (newborn kitten care) জন্মের তিনদিন পরই চোখ খুলে এবং দেখতে পারে। এই সময়টিতেই  umbilical cord বা নাভিরজ্জু পড়ে যায়। যদিও নার্ভ সিস্টেম এই সময়টিতে পুরোপুরি কাজ করে না। লক্ষ করলে দেখতে পাবেন যে, এই সময়টিতে ঘুমের মাঝে তারা মৃদু ভাবে কাপুনি অনুভব করে। এই ঝাকুনি একদম স্বাভাবিক এবং এতে করে তাদের নার্ভ সিস্টেম ডেভেলপ হতে থাকে।

বিড়ালের বাচ্চার যত্নঃ

দুই সপ্তাহ পরেই বাচ্চা বিড়াল হামাগুড়ি দিয়ে হাটে এবং দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এই সময়ে তাদের দাঁত গজানো শুরু করে। আপনি চাইলে আপনার আঙ্গুল দিয়ে তাদের ছোট ছোট দাঁত অনুভব করতে পারবেন।

প্রথম তিন সপ্তাহে, মা বিড়াল তার বাচ্চাকে এবডোমেন এবং এনাল এরিয়াতে নিয়মিত লিকিং করতে থাকে যাতে বাচ্চা বিড়াল শিখে নিতে পারে কীভাবে পরিষ্কার থাকতে হয়। মা বিড়ালের অনুপস্থিতিতে আপনি উষ্ণ গরম তাওয়ালে বাচ্চা বিড়ালকে পরিষ্কার রাখতে পারেন।

তিন সপ্তাহ পরে ছোট বিড়াল হাটতে দেখবেন এবং খেলার চেষ্টা করবে। তাদেরকে এই সময়ে পানিযুক্ত খাবার এবং KMR সাপ্লিমেন্ট (formula for kittens) খেতে দিতে পারেন। এই সময়েও তাদেরকে নিয়মিত পরিচর্যা ও যত্ন করবেন। এই সময়ই লিটার বক্স ব্যবহারের ট্রেনিং দেয়ার উপযুক্ত সময়। clumping clay litter বা ক্লাম্পিং ক্লে লিটার ব্যবহার পরিহার করে চলুন। ছোট বাচ্চাদের জন্য সেরা লিটার হচ্ছে নন ক্লে লিটার।

সদ্যপ্রসূত বিড়ালের ছোট বাচ্চাদের হেলথ বা স্বাস্থ্য ইস্যূঃ

ছোট বাচ্চাদের (newborn kitten care) সাধারণ একটি রোগ হচ্ছে Intestinal parasites বা ইন্টেস্টিনাল প্যারাসাইট। অন্যান্য কিছু রোগ যেমন ইনফেকশন, রেসপটেরি ইনফেকশন এবং কনজেনিটাল ডিজিজ বেশ কমন এদের মাঝে। ছোট বাচ্চাদের রোগাক্রান্ত সিনড্রোম হচ্ছে বেড়ে না ওঠা, আলস্য, প্রচুর ঘুমানো, ঢুলে পড়ে যাওয়া ইত্যাদি। এরকম অবস্থায় দ্রুত ভেট বা পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং ভেটের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।

প্রসবপরবর্তী মা বিড়ালের হেলথ বা স্বাস্থ্য ইস্যূঃ

প্রেগনেন্সি বা গর্ভাবস্থা, জন্মদান এবং জন্মদানের পরবর্তী সময়টি মা বিড়ালের জন্য বেশ স্ট্রেসফুল। মা বিড়ালের শরীর বেশ খারাপ থাকতে পারে এই সময়গুলিতে। মা বিড়ালের হরমনের তারতম্য ঘটে, তার শরীরে দুধ উৎপাদন শুরু হয়। এছাড়াও বাচ্চা বিড়াল (4 week old kittens) জন্মদানের পর রিকোভারিও বেশ দ্রুত ঘটতে থাকে। তবে কিছু কন্ডিশন অবশ্যই সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে।

Mastitis/ মাসটিটিস 

এটি এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন যা মিল্ক ডাক্ট দ্বারা হতে পারে। মেমারি গ্লান্ড দ্বারা মা বিড়ালের দুধ উৎপাদনে ব্লক সৃষ্টি হলে এই রোগটি দেখা দেয়। নিপল গরম এবং পিচ্ছিল হয়ে যায় এতে এবং মা বিড়াল শিশু বিড়ালকে দুধ খাওয়াতে অনীহা বোধ করে। এই রোগ দেখা দিলে জরুরী ভিত্তিতে ভেটের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এন্টোবায়োটিক দিয়ে এই রোগটি ভালো করা সম্ভব। এই সময়টিতে হ্যান্ড ফীড করতে হবে শিশু বিড়ালটিকে।

Hypocalcemia/ হাইপোকেলকেমিয়া 

এর আরেক নান “মিল্ক ফিভার”। যদিও রোগটি খুব কম হয় কিন্ত একবার হলে দেরী না করে মা বিড়ালকে অবশ্যই ভেটের কাছে নিয়ে যেতে হবে। প্রেগনেন্সির সময়ে ক্যালসিয়ামের অভাবে এই রোগটি হয়ে থাকে। এর সিম্পটম্প সমূহ হচ্ছে স্নিজিং, স্ট্যাগারিং, মাসল ট্রেমর, রেস্টলেসনেস এবং এক্সট্রিম পেন্টিং। মা বিড়ালকে সুস্থ করার সময় শিশু বিড়ালকে হ্যান্ড ফিডীং করাতে হবে।

Uterine Metritis/ ইউটেরিন মেট্রিটিস 

ইউটেরাসে একধরনের ইনফেকশন এটি। এটি হলে হেলাফেরা না করে দ্রুতই ভেটের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সাধারনত বাচ্চা জন্মদানের পর মা বিড়ালের ভ্যাজাইনাল ড্যামেজ হওয়াটা বেশ স্বাভাবিক তবে আপনি যদি দুর্গন্ধ পান তবে বুঝতে হবে কোন সমস্যা হয়েছে।

অন্যান্য কিছু লক্ষন হচ্ছে আলস্যতা, জ্বর, দুধ উৎপাদন পরিমাণে কম হওয়া ইত্যাদি। ক্ষেত্রবিশেষে মা বিড়ালকে হাসপাতালে ভর্তি করানো লাগতে পারে। প্রয়োজনে এই সময়টিতেই স্পে করিয়ে নিন। মা বিড়াল যতদিনে সুস্থ হতে থাকবে ততদিনে শিশু বিড়ালকে লালন পালন করুন এবং হেন্ড ফিডিং করুন।  

প্রসবের পর মা বিড়াল ও বাচ্চা বিড়ালের যত্ন কীভাবে নিবেন এটা আশাকরি জানতে পেরেছেন। আরো জেনে রাখুন যে সদ্য জন্ম নেয়া বিড়াল এবং মা বিড়াল দুজনেরই দায়িত্ব আপনার উপর এসে পড়বে। যথাযথ পরিচর্যা করুন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিড়ালের নখ কেটে দিন। এছাড়াও অন্যান্য অসুখ যেমন বিড়ালের ডায়রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন, অন্যথায় তাদের পরিস্থিতি খুবই জটিল আকার ধারন করতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে শিশু বিড়ালের বড় হয়ে ওঠা, খেলা এবং মা বিড়ালের খুনসুটিসহ সব ধরনের সঙ্গ আপনি খুবই উপভোগ করবেন।

Writer: মোঃ খালিদ বিন জামান 

4 thoughts on “প্রসবের পর মা বিড়াল ও বাচ্চা বিড়ালের যত্ন কীভাবে নিবেন How to Take Care of Newborn Kittens with Mother”

Leave a Comment